টেকনাফে নিহত সেনাসদস্যের পরিবারে শোকের মাতম

টেকনাফে নিহত সেনাসদস্যের পরিবারে শোকের মাতম
সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ (২৮)। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছলে শোকে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। লাশ শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিতাস শেখের বাবার নাম আফজাল হোসেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করে সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান (বাবুল) তালুকদার বলেন, আমার ভাগিনা তিতাসের লাশ আজ বিকেলে বাড়িতে আনা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তিতাস অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের একটি ছেলে ছিল। মাত্র কয়েক দিন আগে সে বিয়ে করেছে; কিন্তু নতুন সংসার শুরুর আগেই তার এভাবে চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই সফল অভিযানে জিম্মি থাকা অবস্থায় ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিতাস শেখের প্রতিবেশীরা জানান, তিতাস খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি বিয়ে করেন এবং তাদের কোনো সন্তান নেই। দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার এই মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন