বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলের আসনও এখন দলীয়করণ হচ্ছে

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিরোধী দলের আসনও এখন দলীয়করণ হচ্ছে
ছবি: আমার দেশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী শাসনামলে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি খাতকে দলীয়করণ করা হয়েছিল এবং এখনও তা চলছে। এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পুনরায় দলীয়করণ করা হচ্ছে, এমনকি বিরোধী দলের আসনগুলোকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। সেখানেও নারী এমপি বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যেভাবে রাষ্ট্র চালিয়েছেন এবং যে স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন, সেই কাঠামো এখনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে ড্রাইভার পরিবর্তন হলেও মেশিন অপরিবর্তিত রয়ে গেছে এবং একই মেশিন এখন অন্য একজন চালাচ্ছেন। সেই মেশিন পরিবর্তন না করলে ভালো ড্রাইভার দিয়েও এই গাড়িকে সঠিক দিকে চালনা করা সম্ভব নয়।”

সারাদেশে সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এনসিপির অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভার শুরুর প্রাক্কালে সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম, আলী হাসান জুনায়েদ, সাইফুল্লাহ হায়দার, ফারজানা আক্তার, অ্যাডভোকেট মারুফ হাসান মন্টি ও আনিসুর রহমান জুয়েল রানাসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, “বিএনপি কখনোই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করেনি। তারা যখনই ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠে এসেছিল এবং আন্দোলনে থাকা সকল রাজনৈতিক দল সেই দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা না মেনে একতরফা নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। আন্দোলনের মুখে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালেও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নাটক করেছিল। বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি সবসময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে; পার্থক্য হলো—আওয়ামী লীগ সফল হতে পেরেছে, বিএনপি পারেনি।

নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, বিএনপি এবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে টালবাহানা করছে এবং নিজেদের লোক বসানোর পায়তারা চালাচ্ছে। তবে তাদের সেই চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলেই হবে না; এর প্রধান উপদেষ্টা ও পুরো পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে। সর্বদলীয় মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কোনো দল নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে এনসিপি সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না এবং তা বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

ভারত সরকার সম্পর্কিত প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখতে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশের পক্ষে কারা অবস্থান নিচ্ছে—সেটিই মূল বিষয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ এই কর্মসূচির অন্যতম দাবি।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদী ভরাট, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিষয়ে তারা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার কথাও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সন্ধ্যায় শহরের কাছারি চত্বর থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের নিয়ে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন

পরে সন্ধায় শহরের কাচারী চত্বর থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন । এসনময় নেতাকর্মীরা নানা ধরনের শ্লোগান দেয়।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন