নির্মাণ শেষ হলেও তালাবদ্ধ তিন কোটি টাকার ভবন, দুর্ভোগ ব্যবসায়ীদের

উপজেলা প্রতিনিধি, কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ)

নির্মাণ শেষ হলেও তালাবদ্ধ তিন কোটি টাকার ভবন, দুর্ভোগ ব্যবসায়ীদের

তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক বাজার ভবন। উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা, বাজারের প্রসার ঘটানো এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে সেই ভবন উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পরও তালাবদ্ধ। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ব্যবহার না হয়ে পড়ে আছে, আর সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পাইকশা বাজারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনটি নির্মাণ করে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ৩০ জুন ২০২৩ সালে। ভবনের নিচতলায় ব্যবসা করার পর্যাপ্ত জায়গা এবং দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০টি দোকান কক্ষ তৈরি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বরাদ্দ না থাকায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে আগের মতোই ফুটপাত ও প্রধান সড়কের ওপর দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন। এতে একদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাজার এলাকায় প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু এবং যানবাহন চালকেরা। জনগণের টাকায় নির্মিত একটি ভবন বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়া স্বাভাবিকভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা খোলা আকাশের নিচে এবং সড়কের পাশে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরকার তাদের কথা চিন্তা করেই আধুনিক ভবন নির্মাণ করেছে। কিন্তু ভবনটি ব্যবহার করতে না পারায় সেই উদ্যোগের সুফল তারা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের যাচাই-বাছাই করে দ্রুত দোকান বরাদ্দ দেওয়া হোক, যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, আজ থেকে প্রায় ২ বছর হলো এই ভবনের কাজ শেষ হয়ে গেছে- কিন্তু এখনো সরকার দোকানদারদেরও দিচ্ছে না,এলাকাবাসীদেরও বরাদ্দ দিচ্ছে না। ব্যবসা চালু হলে এখান থেকে সরকার রাজস্ব পাবে। তেমন আমরাও ব্যবসা করে লাভবান হবো।

পাইকশা হাট বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, গত ২ বছরের বেশি সময় ধরে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং এটা হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা এই ভবন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে বেশ কয়েকবার গিয়েছি,সহযোগীতা চেয়েছি - সে আশ্বাস দিয়েছিল যাবো,কিন্তু এখন পর্যন্ত সে আসে নাই। আমরা যেটা চাচ্ছি - উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগতভাবে ব্যবসায়ীদের মাঝে দ্রুত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করুক।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন বলেন, পাইকশা বাজারে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেটা আমরা দেখেছি। আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি,তারা দেখবে যাদের আগে দোকান ছিল, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

জনগণের প্রত্যাশা, কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প যেন বছরের পর বছর তালাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত ভবনটি চালু করে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হলে যেমন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন