সংস্কারের অভাবে সারা দেশেই সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। অনেক সড়কের চিহ্ন মুছে যাবার পথে। এতে যাতায়াতে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা।
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, রোড আইডি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে গত ১৮ বছরে একবারও সংস্কার হয়নি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পশ্চিমবাটি সড়কের। সড়কটির আনিছুরের চাতাল, মওলার বাড়ি, পল্টনের দোকানসহ অন্তত ১৫টি স্থানে বড় আকারের ধসে মাটি সরে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায়, পিচ উঠে যাওয়ার পর এবার মূল সড়কের মাটিও ধসে গেছে। এমনকি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে বসেছে সড়কটির। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে আইডি সংশোধনের জন্য গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বারবার ধরনা দিলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওই গ্রামবাসীর।
সাঘাটা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সড়কটি পাকাকরণের সময় আইডি ছিল না। যে কারণে এতদিন সংস্কার হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইডি সংস্কারের জন্য গত দুই বছরে দুইবার আবেদন করা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। এলজিইডির লোকজনের অবহেলার কারণেই আইডি সংশোধনের অজুহাতের বিষয়টির জন্য সড়কটির আজ এমন বেহাল দশা বলে অভিযোগ করলেন গুনার করার বাসিন্দা আজিজার রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাসেতু-দুর্গাপুর সড়কটির বেশিরভাগ অংশেই পিচ উঠে দুই পাশ ভাঙাচোরা, ধসে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। সড়কের মূল স্থানে মাটি সরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সড়কটি।
পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ২০০৭ সালের পাকাকরণের পর সড়কটি একবারও সংস্কার হয়নি। বিগত ১৮ বছরে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। যানবাহন, পথচারী চলাচল ও বাজারে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এলাকার লোকজন। সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকার লোকজন স্থানীয় সরকার বিভাগে বারবার ধরনা দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি।
প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানালেন, পশ্চিমবাটি গ্রামের জুয়েল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, ফারুকুল ইসলামসহ আরো অনেকে। ওই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, এই এলাকার একমাত্র সড়কটি সংস্কারের অভাবে এমন অচল হয়েছে যে, এখন পায়ে হেঁটে যাওয়াও দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পায়ে হেঁটে চলতে গিয়ে গর্তে পড়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে জানালেন, ওই সড়কে চলাচলকারী পল্টন মিয়া। এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় জানান, যেকোনো একটি ভুলের কারণেই ওই সড়কের আইডি সংশোধন হয়নি। তবে আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গিয়াসপুর বারিষাব সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্ত। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও মাটির অংশ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে যানবাহন চলাচলে দেখা দেয় ঝুঁকি, পাশাপাশি বাড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। উপজেলার গিয়াসপুর বারিষাব সড়কটি স্থানীয়দের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায়, সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও খানাখন্দ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তুলবে।
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের আলীনগর-দাসকান্দি সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। দীর্ঘদিনেও পাকা না হওয়া, ওই সড়কটি খানাখন্দ ও কাদায় চলাচলে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামবাসীর। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ প্রতিদিনের যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া হয় ও স্কুল-মাদরাসায় এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকা ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো সহজ হবে। আলিনগর গ্রামের মোতালিব মিয়া ও রিয়াদ সরকার বলেন, সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে এবং সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না ।
একই গ্রামের আয়নাল হক বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আনারসসহ বিভিন্ন ফসল বাজারে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। রাস্তা ভালো হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টি ও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকা করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কটির আইডি নম্বর আছে, সামনে বরাদ্দে পাকাকরণের প্রস্তাবনা পাঠাব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


