উজানে ভারতে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ উত্তরাঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি আবারও বেড়েছে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ চতুর্থবারের মতো বেড়েছে। ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাদের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব বাঁধ সংস্কার না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামতের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। অথচ শুকনো মৌসুমেই বাঁধ সংস্কার করা হলে কাজ যেমন টেকসই হতো, তেমনি নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও অনেকাংশে কমানো যেত।
গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, রোববার রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষ হিসেবে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
নদীপারের বালাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তসর উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। আজকে বাড়ার পরিমাণ বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। বন্যা এলেই শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়েও দুর্ভোগে পড়তে হয়। এর মধ্যেই থাকে সাপ-পোকার উপদ্রব। বন্যা যত দিন থাকে, আমাদের দুর্ভোগও তত দিন থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে রোববার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ বেড়েছে। সোমবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। পানির চাপ উজানের ঢলের ওপরই নির্ভর করছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

