ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার চরাঞ্চলের শত শত একর জমি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সরকারি চালের স্লিপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকাশ্যে ভূমিহীন পরিবারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নামধারী এই নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে জুতা ও ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন করেছেন। চরের বাড়িঘর থেকে লুট করে নিয়ে যাওয়া ধান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে বিপরীত রাজনীতির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক খোলস বদলে আওয়ামী লীগের আমলে প্রথমে চরফ্যাশন কলেজে চাকরি নেন রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর রেজাউল করিম খন্দকার ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ায় আধুনিক আরবি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে এলাকায় অবস্থান করছেন।
এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলমের নির্বাচনি জনসভায় ফুল দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। ওই সময়ের বিএনপি দলীয় এমপির ঘনিষ্ঠ বনে গিয়ে তিনি দক্ষিণ আইচা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আলতাব ডাক্তার, কাশেম মিয়া, আব্দুছ ছাত্তার হাওলাদারসহ বহু ত্যাগী নেতাকে রাজনীতি থেকে কোণঠাসা করে বনে যান দক্ষিণ আইচা বিএনপির আহ্বায়ক।
এ ব্যাপারে রেজাউল করিম খন্দকার আমার দেশকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমার নামে-বেনামে কোনো ভূমিহীন বন্দোবস্ত কার্ড নেই।’
সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ ওবায়দুল হক বলেন, রেজাউল করিম খন্দকারের বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না। আমি আসার পরপরই তারা চারজন বদলি হয়ে গেছেন। চারজনকে চার কলেজে বদলি করা হয়েছে। দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির আমার দেশকে জানান, রেজাউল করিম খন্দকারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে আসলে কোনো অভিযোগ আসেনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

