আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

স্বাস্থ্য ও খাদ্য ঝুঁকিতে বানভাসি ১৫ হাজার পরিবার

তারেক রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

স্বাস্থ্য ও খাদ্য ঝুঁকিতে বানভাসি ১৫ হাজার পরিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে বন্যার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি জ্বর-সর্দি, ডায়েরিয়া ও চুলকানি রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ওইসব এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষ নির্দিষ্ট স্থানে চিকিৎসা শিবির স্থাপন অথবা ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া প্রায় ৯ হাজার কৃষকের মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় তাদের পাশে দাড়ানোর আহবান ভুক্তোভোগীদের। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, যথা সময়ে পদক্ষেপ নিবেন তারা।

সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। উজানের ঢল আর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওইসব এলাকার মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শিবগঞ্জের পাঁকা ও দুর্ভলপুর ইউনিয়নের মানুষ।

দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির অভাব, গো-খাদ্যসহ নানামুখি সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানিবন্দি মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, চুলকানি ঘা এবং হেপাটাইটিস, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেলে এ রোগগুলো মহামারির আকার ধারণ করতে পারে।

এছাড়া কৃষককের লাগোনো মাঠের ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কটের কথা বলছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাউসার আলী আক্ষেপ করে বলেন, আমরা অবহেলিত জনপদের মানুষ। এদিকে একবার কেউ আসলে পরের বার আসতে চান না। আমাদের ইউনিয়নটির প্রায় অংশই পানিবন্দি। এমন দুর্যোগ-দুর্ভোগের মাঝেও এবারে কোনো চিকিৎসাসেবা পেলাম না। এখনতো প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মানুষও কম নেই। এরপরও চিকিৎসা দেয়ার জন্য কেউ এলেন না।

শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের নিশি পাড়ার বাসিন্দ আবদুল কাদের বলেন, পানিবন্দি মানুষের বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব। এছাড়া ১০ দিনের বেশি সময় ধরে বাড়ির ভেতরসহ চারপাশে পানি থাকায় বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হচ্ছেন মানুষজন। চুলকানি থেকে শুরু করে পাতলা পায়খানাও হচ্ছে অনেকের। সুষম খাবারের পাশাপাশি এখন পানিবন্দি মানুষের বেশি প্রয়োজন চিকিৎসা সেবা। কিন্তু আমরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই পদ্মা নদীর তীরে এমন অবস্থার সৃষ্টি হলেও কোনো পূর্বাভাস আমাদের কাছে পৌঁছে না। যার কারণে আমরা পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারি না। নির্দিষ্ট স্থানে চিকিৎসা শিবির স্থাপন অথবা ভ্রাম্যমাণ মেডিকেলের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় কৃষক আসফাউল হক বলেন, অন্যের কাছে টাকা ধারদেনা করে ৫ বিঘা আউস ধান ও শাক সবজি লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এমন অবস্থা কয়েক হাজার কৃষকের। ফসল নষ্ট হওয়ায় খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করে পর্যাপ্ত সুবিধা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, পাকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়েছে। পানিবন্দি মানুষদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহ রয়েছে।

পানিবন্দি হাজারো মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও খাদ্য সঙ্কটে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পাশে থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা বানভাসি মানুষদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন