ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতার মাস অক্টোবরে মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে দিনাজপুরে দুই দিনে মোট ১৩টি উপজেলায় স্তন ক্যানসার সচেতনতার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কে পথসভা করে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
খুরশীদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালের আয়োজনে গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা ও সদর উপজেলায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
পথসভায় প্রতিষ্ঠানটির সহসভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আগে লোকমুখে একটি কথা শোনা যেত—যদি ক্যানসার হয়, তাহলে আর কোনো অ্যানসার নাই। এই কথাটা সঠিক নয়। ক্যানসার যদি সঠিক সময়ে চিহ্নিত করা যায়, তাহলে অনেক ভালো অ্যানসার আছে। এটা কোনো ভীতিকর বিষয় নয়। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে এবং জানানোর জন্যই আমরা এই লিফলেট বিতরণ করছি।
লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি পথসভায় বলেন, স্তন ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। আগে ধারণা করা হতো ক্যানসার মানেই নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু বর্তমানে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং বিজ্ঞানসম্মত ও পরিপূর্ণ চিকিৎসা করা সম্ভব হলে শতকরা ৯৫ ভাগ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
ঝুঁকি কমানোর কিছু উপায় তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ও নিয়মমতো সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। অতিরিক্ত মাংসজাতীয় খাবার না খেয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেন, তাদের ঝুঁকি কম থাকে; অন্যদিকে যারা অলস জীবনযাপন করেন বা মুটিয়ে যান, তাদের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া নারীরা সাধারণত লজ্জা বা সংকোচ থেকে স্তনের সমস্যা লুকিয়ে রাখেন, যা পরবর্তীতে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাবুজ্জামান, মো. আনোয়ারুল কবির, মো. রাহবার কবির, আবু সাঈদ মোহাম্মদ জুলফিকার রহমান, মো. আখতারুজ্জামান ও মো. শওকতুল্লাহ মজিদ প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


