চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শিশুদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ও অননুমোদিত কৃত্রিম রং ব্যবহার করে অবৈধভাবে নকল চকলেট তৈরির দায়ে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে কারখানাটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত চকলেট, মোড়ক ও তৈরির উপকরণ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা এলাকার চুইরগ্গারো বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন।
অভিযানে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক (রসায়ন) শাহরিয়ার কবির টিপু, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) এম এ আল নোমান, ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. হাসিবুল হাসান, সহকারী পরিচালক (সিএম) রিগ্যান বৈদ্য, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাছির এবং স্যানিটারি পরিদর্শক ছৈয়দ আকবর উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র বিএসটিআইয়ের কোনো ছাড়পত্র ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ওই বাড়িতে গোপনে নকল চকলেট তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। চকলেট তৈরিতে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কৃত্রিম রং ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, যা শিশুদের শারীরিক বিকাশে গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করছিল।
অভিযানকালে কারখানাটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত চকলেট, প্যাকেটজাতকরণের মোড়ক এবং চকলেট তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাঁচ কার্টন সফট ক্যান্ডি, পাঁচ লাখ পিস ওটস বার প্যাকেট, এক লাখ ৪০ হাজার পিস মোড়ক, কুমারিকা তেল, ওট চকো সফট মিক্সড ফ্লেভার, সেলেবেস্ট কোকোনাট ফ্লেভার ক্যান্ডি এবং ওটবার ক্রিসপি অ্যান্ড টেস্টিসহ বিভিন্ন পণ্য ও উপকরণ।
জনস্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট আইনে কারখানাটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি সিলগালা করে দেন।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অবৈধ ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে চকলেটের নামে এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহারে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুততম সময়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

