হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা নবি হোসেন নামের এক যুবক সৌদি আরবের রিয়াদে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তিনি রিয়াদের আজিজিয়া এলাকায় থাকতেন এবং চারমিনা মসজিদের সামনে কাজ করতেন। অপহরণের পর মাফিয়া চক্রের দেওয়া মোবাইল (০১৮৫৭৬৪০০০) নাম্বারে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর পর হতে তার কোনো সন্ধান মিলছে না। এতে নবি হোসেনের দেশের বাড়ি বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের গকুলপুর গ্রামে স্বজনদের মাঝে চলছে আহাজারি ও হতাশা।
নবি হোসেনের বড় ভাই জমির আলী জানান, ছোট ভাই নবি হোসেন গত ২ জানুয়ারি জীবিকার তাগিদে স্থানীয় করিমপুর গ্রামের তারেক মিয়ার মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি দেন। সেখানে রিয়াদের আজিজিয়া এলাকার চারমিনা মসজিদের সামনে ‘শারিকাতু সুরাইয়া উবাইদ আল-মুতাইরি লিল মালুকাত’ কোম্পানিতে কাজ করতেন। দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর গত ৩ জুন নবি হোসেন বাড়িতে ফোন দিয়ে বেতন প্রাপ্তির কথা জানিয়ে পরদিন ৪ জুন টাকা ছাড়ার কথা বলে। জমির আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমার দেশকে জানান, এরপর হতে নবি হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে দালাল তারেক মিয়ার সঙ্গে জমির আলী যোগাযোগ করলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। ঘটনার ১৩ দিন পর ১৫ জুন ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভাইয়ের জীবনের মায়ায় জমির আলী ০১৮৫৭৬৪০০০ বিকাশ নাম্বারে ৩৪ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। তখন অপহরণকারী জানিয়েছিল মুক্তিপণ দিলে নবি হোসেনকে মক্কায় পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু নবি হোসেনের কোনো সন্ধান না দিয়ে পুনরায় আরো টাকা চাওয়া হলে জমির আলী ১৬ জুন মুক্তিপণ বাবদ আরো সাত হাজার টাকা প্রেরণ করেন। এরপরও নবি হোসেনের কোনো সন্ধান না পেয়ে ভাই জমির আলীসহ পরিবারের সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার নবি হোসেনকে উদ্ধারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

