চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এসব মামলা দায়ের করে।
বিষয়টি আজ সকালে নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউল হক সুমন তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য দেন। তবে দুদকের তদন্তে তার নামে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনি ৯৯ লাখ ১ হাজার ৩২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪ টাকা। তবে তিনি ১ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই দিনে দায়েরকৃত অন্য একটি মামলায় সুমনের স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে প্রধান আসামি এবং জিয়াউল হক সুমনকে সহযোগিতার অভিযোগে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। শাহনাজ আক্তারের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে দেখা যায়, তার নামে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ২৬৯ টাকার সম্পদ অর্জিত হলেও তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র ৬৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ফলে তার ক্ষেত্রে ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী জিয়াউল হক সুমনের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি এ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাও আমলে নেওয়া হবে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

