কঠোর অবস্থানে বিজিবি

লালমনিরহাট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

লালমনিরহাট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
ছবি: আমার দেশ

লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফ পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে অবশেষে নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিজিবি এবং গ্রামবাসী এক হয়ে বিএসএফের আগ্রাসি তৎপরতা রুখে দিয়েছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে জেলার তিনটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন!

বিজ্ঞাপন

সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন!

শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোট মধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তারকাঁটার ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে!

একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে শনিবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থান করা বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের তারকাঁটার ভেতরে প্রবেশ করিয়ে পরে একটি পিকআপ ভ্যানে উঠিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তিনটি সীমান্ত পয়েন্টেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে রংপুর সেক্টর সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি।

রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকি এবং দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক অস্বস্তিও বিরাজ করছে। বিএসএফ যখন কাঁটাতার ঘেঁষে বা নো-ম্যানস ল্যান্ডে লোকজনকে জড়ো করে ঠেলে দেওয়ার আয়োজন করে, তখন বিজিবিকে বাধ্য হয়ে পুশব্যাক বা প্রতিরোধ করতে হয়।

পুশইন প্রক্রিয়ার শিকার ব্যক্তিরা তীব্র পরিচয়ের সংকটে আক্রান্ত। তাদের অনেকেরই বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব বা কাগজপত্র থাকার পরও সন্দেহবশত বিতাড়িত করার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন