আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সেন্টমার্টিনে জালে ধরা পড়লো ৬৮৭ লাল কোরাল

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

সেন্টমার্টিনে জালে ধরা পড়লো ৬৮৭ লাল কোরাল

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ।

বুধবার সকালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মৌলভীর শীল এলাকায় এক জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে এই মাছ লাল কোরাল ও ভেটকি নামে পরিচিত। চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন একে লাল পানসা, রাঙা ছইক্কা কিংবা রাঙাচই নামেও চেনে। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম লেটস ক্যালকারিফার। প্রতিটি মাছের ওজন দুই থেকে চার কেজির বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। মাছগুলো ধরা পড়ে মোহাম্মদ জাকারিয়া মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার নৌকায়।

সুত্র মতে, একদিন আগে নৌকাটি শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া মৎস্য ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। নৌকার মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে নয়জন মাঝিমাল্লা এই নৌকায় ছিলেন। সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর পাশে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে নৌকাটি নোঙর করে জাল ফেলে। সকালে জাল তুলতেই বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়ে।

বিকেল পাঁচটার দিকে নৌকাটি মাছভর্তি অবস্থায় শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া মৎস্য ঘাটে ফিরে আসে।

নৌকার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, ধরা পড়া ৬৮৭টি মাছের মধ্যে ১০টি রেখে বাকি ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করা হয়েছে। প্রথমে মণপ্রতি ২৪ হাজার টাকা দরে দাম ধরা হলেও পরে দর–কষাকষির মাধ্যমে মণপ্রতি ২৩ হাজার টাকা দরে মোট ১০ লাখ টাকায় মাছ বিক্রি হয়।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মৎস্য ঘাটে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাজারে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, সুস্বাদু হওয়ায় কোরাল বা ভেটকি মাছের দেশব্যাপী ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গভীর সমুদ্রের মাছ হওয়ায় এটি সব সময় বাজারে পাওয়া যায় না, ফলে দাম তুলনামূলক বেশি।

শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে এক জালে ৬৮৭টি লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। লাল কোরাল মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ এবং এই চ্যানেলে বেশি ধরা পড়ে।

তার মতে, দীর্ঘদিন সাগরে ভালো মাছ না পাওয়ায় জেলেরা হতাশ ছিলেন। তবে গতকাল থেকে আবারো ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল ধরতে সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা সাংবাদিকদের বলেন, কোরাল কিংবা ভেটকি মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। এটি বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ এবং সাধারণত এক থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্রজনন মৌসুমসহ সরকারের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার কারণে বর্তমানে সাগরে বড় আকারের কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...