দেবীগঞ্জে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়)

দেবীগঞ্জে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন পাঠানোর অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। তিনি এক শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র পাঠান।

অভিযুক্ত মহাদেব রায় বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি)।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নের সঙ্গে প্রতিবেদকের হাতে থাকা একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশটের হুবহু মিল রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন প্রণয়ন করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মহাদেব রায়। বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে শিক্ষক যে বিষয়ে ক্লাস নেন, তিনি ওই বিষয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন করেন, তিনিই প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে খামে সিলগালা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন।

পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ে সেই সিলগালা খাম খুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর আগেই কোনো প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গেলে বা ফাঁসের ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন প্রণয়নকারী শিক্ষকের ওপর বর্তায় বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিন বলেন, ‘মহাদেব বাবুর প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করব। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মোছা. রোকসানা বেগম বলেন, ‘একজন শিক্ষক যদি প্রশ্ন ফাঁস করেন, তাহলে মানসম্পন্ন শিক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে? প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

উল্লেখ্য, এর আগেও সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়তে এবং বিশেষ কোচিং ক্লাসে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হতো। বিষয়টি সে সময় জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...