ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দলের প্রধান প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পেশা রাজনীতি ও বই লেখা। তার স্ত্রী মোসা. রোকেয়া খাতুন একজন গৃহিণী। মুজিবুর রহমানের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৬৮৪ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে শেয়ার-বন্ড, পেশা ও অন্যান্য খাত উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় তিনি নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের অর্থ ৫ লাখ টাকা, ভাইয়ের কাছ থেকে ঋণ ৫ লাখ টাকা, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অনুদান ১৫ লাখ টাকা এবং ছয়জন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান হিসেবে ১২ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে মুজিবুর রহমানের কাছে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬১ টাকা। আসবাবপত্রসহ তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। তার স্ত্রী রোকেয়া খাতুনের মালিকানায় রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে মুজিবুর রহমানের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ নেই।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, চাকরির পেনশন, ব্যবসা ও ব্যাংক মুনাফা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ ২ হাজার ৫৪৭ টাকা। এছাড়া তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৫৫ টাকা।
শরীফ উদ্দীনের হাতে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থ, ব্যবসায় বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, ফিক্সড ডিপোজিট, মোটরযান, স্বর্ণ ও আসবাবপত্রসহ তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৬৮ লাখ ২৭ হাজার ৯৭১ টাকা। তবে এসব সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৪০ কোটি ২৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ টাকা। তার স্ত্রী হেলালুন নাহারের সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৫ লাখ ২২ হাজার ১৬০ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, শরীফ উদ্দীনের ঢাকার মিরপুর ও বনানীতে এক বিঘা অকৃষি জমি রয়েছে। এর অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। শরীফ উদ্দীন ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো ঋণ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের ক্ষেত্রে তিনি জানিয়েছেন, নিজস্ব আয় থেকেই ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
রাজশাহী-১ আসনে দুই প্রার্থীর সম্পদ ও আয়ের এই বৈষম্য ইতোমধ্যে ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

