কুমিল্লার কৃষি ও ব্যবসাসমৃদ্ধ উপজেলা বরুড়া। জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে বরুড়া সংসদীয় আসন। জেলার এ আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
এ আসনে দলের প্রার্থী হয়ে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে শিল্পপতি একেএম আবু তাহের এমপি নির্বাচিত হন। তার হাত ধরে আসনটিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠন সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি চাচ্ছে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে, আর আসনটিতে বিজয় অর্জন করার টার্গেট নিয়ে মরিয়া জামায়াতের একক প্রার্থী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় আসন এলাকা সরব। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ লক্ষ করা যাচ্ছে। কোরবানির ঈদের পর থেকে ঈদ পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার প্রভাবশালী নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি বেশ চাঙা হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে এ দুটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে দলের হাইকমান্ডে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন। সাবেক এমপি একেএম আবু তাহের ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। তখন উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন তার ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপির তৎকালীন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যান। এরপর একতরফা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আসনটি আওয়ামী লীগ দখলে নেয়।
২০১৮ সালে এখানে বিএনপির সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এখানে বিএনপির হেভিওয়েট সম্ভাব্য একক প্রার্থী সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। দলের একাধিক নেতা জানান, সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন আসন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি গঠন করেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায়ও একাধিকবার গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা করেছেন। উপজেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক কাউছার আলম সেলিম, সদস্য সচিব সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ রেজাউল হক রেজু, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোলসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে ইউনিয়ন ভাগ করে প্রতিনিয়ত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া বরুড়া উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও ওলামা দলের নেতারা সম্ভাব্য প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের পক্ষে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তারা আরো জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় নির্বাচনের নামে তামাশা করা হয়েছিল। এরপরও দীর্ঘ এ সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমনের নেতৃত্বে দলের অধিকাংশ প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনের প্রতিটি এলাকায় তার মজবুত অবস্থান রয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। এছাড়া এখানে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু প্রার্থী হতে পারেন বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে। তবে তার পক্ষে আসন এলাকায় এখনো প্রচার-প্রচারণা লক্ষ করা যায়নি।
অপরদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের শূরা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুল আলম হেলাল জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী। প্রতিনিয়ত বরুড়া উপজেলার প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি গত কয়েক মাস যাবৎ আসন এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে এলাকাভিত্তিক ঘরোয়া বৈঠকও শুরু করেছেন। জামায়াত এ আসনটিতে কোনো সময় জয় পায়নি। তাই আগামী নির্বাচনে জয় পেতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।
এদিকে, নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ আসনে এনসিপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রকি ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

