পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুমকি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জব্বার সিকদারসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিক পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ২নং লেবুখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পারিবারের সদস্য হলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার দুমকি উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন। তাদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ করে আঠারগাছিয়া মৌজার দাগটি সরকারি রেকর্ডে হালট হিসেবে চিহ্নিত জমিতে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
দুমকি উপজেলা বিএনপির ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ খোকন ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল্লাহসহ অনেকেই দাঁড়িয়ে থেকে দেয়াল নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি হালটটি কার্তিকপাশা ও আঠারোগাছিয়া গ্রামের জন সাধারনের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সরকারি হালটের "দক্ষিণ আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের" উত্তর পাশ দিয়ে ২০ শতকের মতো জমি কবরস্থানের সীমনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, বিএনপি নেতা আবদুর জব্বার সিকদার এর পুর্ব পুরুষদের সরকারি হালটে কবরস্থ করার মধ্যদিয়ে এ দখলের সূচনা করে। এখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রচীর নির্মাণ করে পুরাপুরি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি প্রশাসনের নিকট দাবি করেন যেহেতু জমিটি সরকারি রেকর্ডে হালট হিসাবে চিহ্নিত তাই জন সাধারনের চলাচলের জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তাদের চলাচলের পথ নিশ্চিত করা হউক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেন, ভুমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি। কাজ বন্ধ থাকবে, আমাদের সার্ভেয়ার দিয়ে হালটের জমি দখল মুক্ত করা হবে।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে জমিটির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকন বলেন, সরকারি হালট হলেও জায়গাটি তাঁদের বাপ-দাদার আমলের পারিবারিক কবর স্থান, তাই পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারন এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে ভূমি প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

