পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তিন দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পৌর শহরে ফের উভয়দলের কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এদিকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বাউফল থানার ওসির অপসারণের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থকরা প্রচার চালানোর সময় একজন ভোটারকে ৫০০ টাকা দেন বলে অভিযোগ। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপির এক কর্মী টাকা প্রদানের ভিডিও ধারণ করলে জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
এদিকে সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। মিছিলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মিছিল থেকে বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিলে ঘটনাস্থলে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা। এর কিছু সময় পরে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকে তার গাড়ি আটকে দেয় জামায়াত সমর্থকরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপর সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনেসহ কয়েকটি স্থানে জামায়াত সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফলে ঢাকা-বাউফল-দশমিনা সড়কের সকল যানচলাচল বন্ধ ছিল।
জামায়াত ইসলামীর অভিযোগ রয়েছে চন্দ্র দ্বীপের জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানা ঘেরাও করেছে জামাতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাকে সেনাবাহিনীর বাউফল ক্যাম্প ইনচার্জ মেজর রিমান জামাতের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

