নির্বাচনের প্রভাবে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। প্রতি বছর এ দিনে পটুয়াখালীর পর্যটননগরী কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ফাগুনের আমেজ আর ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে সৈকতজুড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। থাকে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু এ বছর দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা। ভালোবাসা দিবসেও দেশের অন্যতম দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার এ সৈকত ছিল পর্যটকশূন্য। এতে পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে ।
জানা গেছে, সৈকতের জিরো পয়েন্ট, গঙ্গামতি, লেম্বুরবন ও শুঁটকি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়—অধিকাংশ স্পটেই পর্যটকের উপস্থিতি নেই । সংখ্যায় কম হলেও যে কয়েকজন পর্যটক এসেছেন, তারা সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। জিরো পয়েন্ট এলাকায় কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা না থাকায় দোকানিরা লুডু খেলে সময় পার করছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে এ বছর ভালোবাসা দিবসে পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এমন স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনÑ পর্যটননির্ভর ১৬টি পেশার মানুষ।
হোটেল সি-ক্রাউনের পরিচালক মামুন খান বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে আমরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশিত পর্যটক না আসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হোটেল প্রায় ফাঁকা। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, ‘আমরা মূলত ট্যুর অপারেটর ও ঢাকার বিভিন্ন এজেন্সির পাঠানো পর্যটকদের গাইড করি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের ৭০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড বেকার সময় কাটাচ্ছেন। সামনে পরিস্থিতি কতদিন এমন থাকবে, তা অনিশ্চিত।’ অন্যদিকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার প্রেসিডেন্ট ও প্রেস ক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে কুয়াকাটার পর্যটন খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। চলমান নির্বাচন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক মিলছে না। মৌসুমের শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও এখন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। এতে সরকারেরও বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘পর্যটকের সংখ্যা কম হলেও আমরা সৈকতের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে টহল দিচ্ছি। যারা ভ্রমণে এসেছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর রয়েছি।’
প্রতি বছর ফাগুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে যে কুয়াকাটা থাকে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর, সেখানে এ বছর নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, আগামী ঈদ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে পর্যটননির্ভর এ জনপদের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

