নিজের বিয়ে ঠেকাতে পুলিশের সাহায্য নিতে থানায় গেলেন তহমিনা আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষা। শনিবার ওই শিক্ষার্থী নিজেকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করতে জিয়ানগর থানায় অবস্থান নিয়েছেন।
ওই শিক্ষার্থী পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে। জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
তাহমিনা আক্তার বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছে । দুই দফায় হাজির হয়ে পুলিশের সাহায্য চেয়েছে।
তহমিনার সহপাঠিরা জানায়, তাহমিনা আক্তার মেধাবী শিক্ষার্থী। আমরা চাই ও লেখা পড়া করুক। শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদার একজন কৃষক। তার আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে না পেরে বিয়ে দিতে চাচ্ছে।
তাহমিনা জানান, আমার বাবা ভাই ভাবি মিলে আমাকে জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন । আমি এই মুহূর্তে বিয়ে করতে চাচ্ছি না। কয়েকদিন পরে আমার এসএসসি পরীক্ষা। আমি পরীক্ষা দিতে চাই।
এ বিষয়ে তহমিনার বাবা আলম হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস । সব সময় ভালো ছেলের খোঁজ পাই না। এইবার একটা ভালো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, আমরা রাজি হয়েছি।’
এ বিষয়ে তাহমিনার স্কুল শিক্ষক নাকির হোসেন জানান, তাহমিনাকে আমরা বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। কোন শিক্ষার্থীকেই ঝড়ে পড়তে দেবো না।
জিয়ানগর থানার এস আই সাইদুর রহমান জানান, ‘মেয়েটাকে আমরা বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করব। বাল্যবিয়ে দেবে না এই শর্তে লিখিত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে মেয়েটাকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

