দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ফিরছে বহুল প্রতীক্ষিত বিচ কার্নিভাল। পর্যটকদের আকৃষ্ট করা এবং কুয়াকাটাকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনব্যাপী আয়োজন করা হচ্ছে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রোববার কার্নিভালকে সামনে রেখে কুয়াকাটার পর্যটন হলিডে হোমসের কনফারেন্স রুমে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, বিনোদন ও পর্যটকসেবা নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি (ট্যুরিস্ট পুলিশ) অর্নিবান চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় অংশীজনরা।
আয়োজকরা জানান, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা এবং পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চলকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতেই এবারের কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
দুদিনের আয়োজনে সৈকত ক্যাম্পিং, বিচ ফুটবল, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ উৎসব, পুঁথিপাঠ, প্রি-ইভেন্টসহ নানা কর্মসূচি থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য, খাবার ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিভিন্ন আয়োজন রাখা হচ্ছে।
কার্নিভাল ঘিরে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় চলছে সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রস্তুতি। আয়োজকদের আশা, ব্যতিক্রমী এসব আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটায় নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ বিরতির পর বিচ কার্নিভাল আয়োজনের খবরে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি ফিরবে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটাকে শুধু একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, বিনোদন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিস্তৃত সমুদ্রসৈকত, একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় কুয়াকাটা। তবে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বড় আয়োজন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটার সম্ভাবনা আরো বহুগুণ বাড়বে।
দীর্ঘ ৯ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬ সেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবেÑএমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

