প্রকৃতির খেলা মানুষকে কতভাবেই না বিস্মিত করে! ঝালকাঠির রাজাপুরে ঠিক তেমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে অগণিত মানুষ। একটি বা দুটি নয়, ছোট আকৃতির একটি আমড়া গাছের প্রতিটি থোকায় ঝুলছে শত শত আমড়া। গাছটির একেকটি থোকা যেন আমড়ার বিশাল একেকটি স্তবক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়কৈবর্তখালী গ্রামের মিলবাড়ী এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমছে। ৫০ টাকার একটি চারাগাছ আজ এলাকার বিস্ময়।

বড়কৈবর্তখালী গ্রামের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদারের ছেলে মাসুদ পেশায় একজন টমটমচালক। তিন বছর আগে নতুন বাড়িতে রোপণের উদ্দেশ্যে¯স্থানীয় পাকাপুল বাজার থেকে স্বরূপকাঠির এক ভ্রাম্যমাণ চারা বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে ১৫০ টাকায় তিনটি আমড়া চারা কেনেন তিনি। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ জাতের এবং একটি হাইব্রিড জাতের।
চলতি বছর তিনটি গাছেই প্রথমবারের মতো ফল আসে। সাধারণ দুটি গাছে স্বাভাবিক ফলন হলেও হাইব্রিড গাছটিতে দেখা দেয় এক বিস্ময়কর দৃশ্য। গাছটিতে ১৪টি থোকা এসেছে, কিন্তু প্রতিটি থোকায় রয়েছে শত শত আমড়া! কারো কারো মতে গাছজুড়ে হাজারেরও বেশি।
কৃষক মাসুদ বলেন, ‘গাছটিতে বাড়তি কোনো রাসায়নিক সার বা ওষুধ দেওয়া হয়নি। শুধু গোড়ায় নিজের গরুর গোবর ব্যবহার করেছিলাম। চোখের সামনেই এমন অবিশ্বাস্য ফলন দেখে আমি নিজেই বিস্মিত হয়ে গেছি। গাছজুড়ে আমড়ার এমন উপচে পড়া ফলনে আনন্দ যেমন আছে, তেমনি কপালে চিন্তার ভাঁজও পড়েছে কৃষক মাসুদের। আমড়াগুলো আকারে বড় হতে শুরু করায় যে কোনো সময় ফলসহ ডাল ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ফল টিকিয়ে রাখতে এবং ডাল ভাঙা রোধ করতে মূল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টেনে টেনে থোকাগুলোকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ফল কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান মাসুদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আমড়াগাছের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে মাসুদের নতুন বাড়িতে। দর্শনার্থীরা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে ও ভিডিও করছে, প্রকাশ করছে গভীর বিস্ময়।
দেখতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, ‘ফেসবুকে ভিডিও দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। ভেবেছিলাম এডিটিং বা ভুয়া খবর। কিন্তু এখানে এসে নিজের চোখে দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এক থোকায় যে এত আমড়া ধরতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব।’
এলাকার অনেক তরুণ ও কৃষক এই বিস্ময়কর ফলন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তারা মাসুদের কাছ থেকে চারা সংগ্রহের উৎস এবং চাষপদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এমন আমড়ার চাষ করা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদা শারমিন আফরোজ বলেন, যথাযথ যত্ন এবং সঠিক হরমোন বিন্যাসের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তবে কারণ আর যা-ই হোক না কেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে মাসুদের এই ‘হাজারি আমড়া’র গাছটি এক নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

