মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের মানবিক সহায়তায় ভোলার চরফ্যাশনে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। বিশেষ ভিজিএফ (ভিজিটিং গ্র্যান্ট ফর ফুড) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩৫ হাজার ৬৫৬ জন প্রান্তিক জেলে ও মাঝি-মাল্লার জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৮৯১ দশমিক ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চাল বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। প্রথম দিনে নিবন্ধিত জেলেদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড যাচাই-বাছাই করে এ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ পরিবেশ তৈরি ও জাতীয় ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোই এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য।
চাল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ও জিন্নাগড় ইউনিয়ন প্রশাসক জয়ন্ত কুমার অপু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাল সহায়তা পাওয়া স্থানীয় জেলে হারুন মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি। ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও মা ইলিশ রক্ষায় আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে নদী থেকে দূরে থাকছি। নিষেধাজ্ঞার এই দিনগুলো নৌকা ও জাল মেরামতের কাজে কাটবে। সরকারের খাদ্যসহায়তায় এই সংকটকালে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেল।
উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেরা যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে কারণেই সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আইন অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে নেমে প্রজনন বিঘ্নিত না করে, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, তালিকাভুক্ত সকল জেলের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল পৌঁছে দিতে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মা ইলিশ সুরক্ষায় সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান পালন করবে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, কঠোর তদারকি ও জেলেদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রজনন মৌসুম সফল হলে আগামীতে নদীতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

