ভোলায় বাস ও সিএনজি চলাচলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা করেছেন জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি। পাশাপাশি মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নিরাপদ যানবাহন চলাচলের দাবিতও করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার ভোলা প্রেসক্লাবে ভোলা জেলা বাস মিনি বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এ সকল দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, ইলিশা লঞ্চ ঘাট থেকে দক্ষিণ আইচা পর্যন্ত মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে থ্রি হুইলার সিএনজি চলাচল নিষেধ থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা করছেন না। এ ব্যাপারে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংএ অনেকবার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাতে তারা ৩ জনের বেশি যাত্রী বহন না করেন। বিআরটিএ'র আইন এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা এখন ৫জন করে যাত্রী বহন করছেন। যার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। থ্রি হুইলার সিএনজি বেপরোয়া চলাচলে আইন শৃঙ্খলা ও বিআরটিএর দুর্বলতা থাকতে পারে বলেও বাস মালিক সমিতি মনে করেন।
গত ২১/০৫/২৫ ও ১৯/০৭/২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ থ্রি হুইলার সিএনজি চলাচলের বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা মানছে না বলে তিনি দাবি করেন। এমন পরিস্থিতিতে বাস ও থ্রি হুইলার সিএনজি চলাচলকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। এরকম ঘটনার জন্য বাস মালিক সমিতি দায়ী থাকবে না। ইতিমধ্যে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে থ্রি হুইলার সিএনজি চলাচল করতে পারবে না মর্মে ঘোষণার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
এ সময় বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান বলেন, থ্রি হুইলার সিএনজির বেপরোয়া গতির কারণে গত দুই বছরে শতাধিক যাত্রী ও পথচারী নিহত হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সহ সভাপতি হাসান মাসুদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মুনতাসির আলম রবিন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির সেলিম, সমিতির সিনিয়র সদস্য জিহাদ ভূইয়াসহ বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভোলা জেলা সহ সভাপতি বাহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ৪৭ জেলায় থ্রি হুইলার সিএনজিতে ৫জন করেই যাত্রী বহন করা হয়। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে ৪জন করে বহন করার দাবি করছি। বাস মালিক সমিতির রুট ফারমিট ছাড়াও অনেক বাস চলাচল করে। ভোলার সকল আইন থ্রি হুইলার সিএনজির জন্য। বাসের জন্য নয়। এটা বৈষম্য। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই।
আইন-শৃঙ্খলা অবনতির বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার আমার দেশকে বলেন, কেউই আইন হাতে তুলে নেয়ার আমরা পক্ষে নয়। সবাই সবার নিয়ম মেনে চলবে এটাই আশা করি। বাস মালিক সমিতি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া ঠিক নয়।
ভোলা জেলা প্রশাসক ডাক্তার শামীম রহমান আমার দেশকে বলেন, থ্রি হুইলার সিএনজি'র জন্য সরকার নির্ধারিত যে আইন আছে সেটাই তারা মেনে চলা উচিত। তারা আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন দেখবে। কিন্তু অন্য কোন পক্ষ আইন হাতে তুলে নেবে এটা আমরা কামনা করি না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

