ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের ফলাফল নেতিবাচক (মাদকমুক্ত) এলে তবেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশনা দিয়েছেন। ১ অক্টোবর রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো দাপ্তরিক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় ম্যানেজিং কমিটির এখতিয়ারভুক্ত বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া এ নির্দেশনার আওতায় থাকবে। এর মধ্যে অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, আয়া এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ নানা পদ রয়েছে।
ইউএনওকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনেই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্টের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, রাজাপুর-কাঁঠালিয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। একই পোস্টে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো ধরনের নিয়োগ-বাণিজ্য সহ্য করা হবে না।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ম্যানেজিং কমিটির অধীন যেকোনো পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট এখন থেকে একটি বাধ্যতামূলক আইনি ধাপ হিসেবে যুক্ত হলো।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে ডোপ টেস্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত থাকবেন, তাদের সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষক ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের আচার-আচরণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
তিনি আরো যোগ করেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাগ্রে মাদকমুক্ত রাখতে হবে। তাই ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করা গেলে কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে প্রবেশের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে আসবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

