অল্প খরচে বেশি লাভ এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ভান্ডারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মাঝে বইছে আনন্দের সুবাতাস। এলাকায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষ। একই সঙ্গে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গম চাষে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন, তেমনি হলুদ ফুলে ভরে ওঠা মাঠ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা। নানা রঙের পোশাকে ফুলপ্রেমীরা সরিষা ক্ষেতে ভিড় করছেন ছবি ও সেলফি তোলতে। মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা জাতের কীটপতঙ্গের আনাগোনা এবং মধু সংগ্রহের দৃশ্য পুরো পরিবেশকে করে তোলেছে আরো মনোমুগ্ধকর।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলায় চলতি মৌসুমে গম আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ১৯ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা ও গমের বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮ এবং বারি গম-৩৩ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
কৃষক খলিলুর রহমান ফরাজী বলেন, বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেশি। নিজেদের চাহিদা মেটানো ও বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ বছর এক একর জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি, একই সঙ্গে গম চাষ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি ভালো লাভ করতে পারব।
স্থানীয় কৃষক রিয়াজ উদ্দিন জানান, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষা ও গমের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি। বাজারে দাম ভালো পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার সরিষার ফলন খুব ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ফলন বেশি পাওয়ার আশা করছি। যদি বাজারদর ঠিক থাকে তাহলে আমাদের ভালো লাভ হবে। অন্য এক কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদ করায় অতিরিক্ত আয় হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ চালাতে সুবিধা হবে। সরিষা ও গম ক্ষেত দেখতে আসা কলেজছাত্রী আফরোজা আক্তার বলেন, পুরো মাঠ হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে। মনে হচ্ছে যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেছি। অন্যদিকে গম ক্ষেতে সবুজে ঘেরা প্রকৃতি। ছবি তোলার জন্য দারুণ একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা ও গমের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ এবং যথাযথ পরিচর্যা বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আশা করছি, চলতি মৌসুমে সরিষা ও গম চাষে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

