তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরীর পানি হঠাৎ বিপৎসীমার ওপরে, দুই পাড়ে ভাঙন

তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরীর পানি হঠাৎ বিপৎসীমার ওপরে, দুই পাড়ে ভাঙন
ছবি: আমার দেশ

রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদীর পানি হঠাৎ বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় তারাগঞ্জের বারাতি পয়েন্টে যমুনেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ সময় ওই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৩৪ দশমিক ৬৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৩৪ দশমিক ৫৩ মিটার। স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনেশ্বরী নদী সাধারণত কখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করে না। তাই হঠাৎ পানির এমন বৃদ্ধি তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনেকেই বলছেন, নদীর এমন রূপ আগে কখনো দেখেননি।

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, যমুনেশ্বরী নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায়। সেখান থেকে নদীটি জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ হয়ে পীরগঞ্জে করতোয়া নদীতে মিলিত হয়েছে। এটি একটি দেশীয় নদী হওয়ায় উজানের ঢল আসে না এবং সাধারণত বিপৎসীমা অতিক্রমও করে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডোমার ও ডিমলাসহ উজানের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে যমুনেশ্বরীর পানি দ্রুত বেড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ মোজাফফর হোসেন ও সমাজ উন্নয়নকর্মী হরলাল রায় বলেন, ‘বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়ে, তবে যমুনেশ্বরী নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এমন কথা আগে কখনো শুনিনি।’

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ডালিয়ায় ২২ মিলিমিটার, কাউনিয়ায় ১৮ মিলিমিটার এবং রংপুরে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণেই যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বৃষ্টি কমলে দ্রুতই পানির স্তর নেমে যাবে।

এমএই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন