আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বরিশাল-২

আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

নিকুঞ্জ বালা পলাশ, বরিশাল

আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বরিশাল-২ আসনের প্রার্থীদের প্রচার। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচার। অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। দিচ্ছেন নানা আশ্বাস, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। প্রচার আর প্রতিশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে ভোটের মাঠের চিত্র।

কথার ফুলঝুরিতে নয়, বরং সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করবেন বলে জানান ভোটাররা। নির্বাচনে আট প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছেন তারা। তবে দুদলই আওয়ামী লীগের ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া। কারণ, তাদের ভোট জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী এস সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইলেও পাননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এসব নেতা ও তাদের সমর্থকরা ধানের শীষের প্রার্থী সান্টুর সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেননি। কেবল ধানের শীষের প্রার্থী সান্টু এবং তার সমর্থকরাই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ নেতাকর্মী সান্টুর সমর্থক হলেও অন্যরা অনেকটা কোণঠাসা। নির্বাচনি প্রচারে দেখা যাচ্ছে না তাদের। এতে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ বিক্ষুব্ধ হয়ে যোগ দিয়েছেন জামায়াতে। এ নিয়ে অনেকটা অস্বস্তিতে বিএনপি নেতারাও। বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টারসহ প্রভাবশালী ছয় নেতা ও তাদের দুই শতাধিক কর্মী-সমর্থক সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

সূত্র জানায়, সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু এলাকায় তুমুল জনপ্রিয়। অপরদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় না হলেও সৎমানুষ হিসেবে পরিচিত। উজিরপুর ও বানারীপাড়ায় বিগত দিনে দলটির ব্যাপক কর্মকাণ্ড না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কর্মকাণ্ড জোরদার করছে। চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা, নির্যাতন, চাঁদাবাজির অভিযোগ না থাকায় ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়ছে।এছাড়া বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত মোটরগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বাদলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর আগে তিনি তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও একজন শক্ত প্রার্থী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা নেছার উদ্দিন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকের আব্দুল হক, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির আম প্রতীকের সাহেব আলীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু বলেন, বিগত ১৭ বছরে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু কারো প্রতি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনি। জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছি। এ কারণেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, শান্তির জন্য মুসলিম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ জামায়াতকে ভোট দেবে। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে কোনো মানুষ সম্মান হারায়নি। এ কারণে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জামায়াতকে বিজয়ী করবে।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, বরিশাল-২ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই আছে। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান আছে। ভোটের প্রচার নিয়ে এখন পর্যন্ত কোথাও রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সন্ধ্যা ও কঁচা নদীবেষ্টিত বরিশাল-২ সংসদীয় আসনটি। উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ভোটার। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪০টি; এর মধ্যে উজিরপুরে ৮৪টি। নির্বাচনে এই আসনে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগেরও উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররা কোনদিকে ঝুঁকে পড়বেন, তার ওপর নির্ভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন