দৌলতখান মডেল স.প্রা. বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট

উপজেলা প্রতিনিধি, দৌলতখান (ভোলা)

দৌলতখান মডেল স.প্রা. বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট
ছবি: আমার দেশ

ভোলার দৌলতখান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতলা এ বিদ্যালয়ে প্রাকপ্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থীর জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পড়ালেখার চরম বৃঘ্ন ঘটছে। উপজেলার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি।

দুই স্ফিটের এ বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় জায়গার অভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানা গেছে। মানসম্মত পাঠদান ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জেলার মধ্যে অনন্য। সুনামখ্যাত উপজেলার শ্রেষ্ঠ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জায়গার সংকটে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে না পেরে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলা শিক্ষা কমিটি বিদ্যালয়ের একটি পুরান জরাজীর্ণ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সরকারি নিয়মানুযায়ী ভেঙে নিয়ে যায়।

পরবর্তীকালে গত চার বছরেও বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে বিদ্যালয়ের পাশে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি পরিত্যক্ত কক্ষে এবং শিক্ষকদের উদ্যোগে একটি টিনের চালায় পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।

স্কুল বাউন্ডারির বাইরে বিচ্ছিন্ন শ্রেণিকক্ষ হওয়ায় রোদ গরমের উত্তাপ, ঝড় বৃষ্টি বাদলের মধ্যে পাঠদান এবং প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।

অন্য দিকে বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটিও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। একটু বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি ঝরে। সিলিংয়ের আস্তর খসে পড়ছে। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওয়ালের প্লাস্টারও খসে পড়ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি বিরাজ করছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা জুহি, মাহমুদুর রহমান তাহসিন, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি,

ও তায়্যেবা জানায়, ক্লাসরুমে জায়গা না থাকায় বসতে অসুবিধা হচ্ছে। ক্লাস চলাকালে ওপর থেকে ছোট ছোট টুকরা ভেঙে পড়ে। স্কুলে আসতে ভয় হয়।

অভিভাবক জহির উদ্দিন এবং আবদুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলে ছেলেমেয়েদের পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় রক্তপাত এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

অভিভাবকদের দাবি শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনে বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।

উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। এ ব্যাপারে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছি।

প্রধান শিক্ষক মহিবুর রহমান জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটে নিরুপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত চার বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে আসছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদ উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে, অথচ ভবন নেই। গত ১৬ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ঢাকা) সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম, ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে দৌলতখানে আসলে তাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট ও বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজনের বিষয়টি জানিয়েছি। এছাড়া একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠিয়েছি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি হাফিজ ইব্রাহিমকে জানালে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখেন এবং একটি নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন