কোনো ধরনের তদবির ও আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৫৭ জন কর্মচারী। কেবল আবেদনপত্র বাবদ ৬০ টাকা ছাড়া কোনো চাকরিপ্রার্থীকে কোথাও এক টাকাও ঘুষ দিতে হয়নি বলে দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ২০তম গ্রেডে নবনিযুক্ত কর্মচারীদের নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশনে অংশ নিয়ে এই দাবি করেন তারা। বিনা তদবির ও কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন ছাড়া চাকরি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন যোগদানকৃত এসব তরুণ-তরুণী। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক, ব্যাপক আলোচনা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও সদ্য সমাপ্ত ৫৭ জনের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল।
সূত্র জানায়, বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নানান জটিলতায় তা সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ওই নিয়োগের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত না দিয়ে আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছিল ডিসির সাবেক সিএ মামুন ও তৎকালীন পেশকারের বিরুদ্ধে। তবে গত ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়, এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলো এবং সার্কিট হাউসে ২০তম গ্রেডের ৮২টি পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩০ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে ৮২টি পদের মধ্যে ৫৭টিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ।
সাধারণত চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশের ধারণা—চাকরি পাওয়া মানেই বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন। সেই বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কোনো টাকা ছাড়াই চাকরি পাওয়ার বিষয়টি এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া জুলহাস হোসেন, হাসি আক্তার ও মোহাম্মদ বুলবুল ইসলামসহ একাধিক কর্মচারী জানান, বিগত দিনে তাঁরা ৫ থেকে ৭ বার ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেধা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার কোনো প্রকার অর্থনৈতিক লেনদেন ও তদবির ছাড়াই চাকরি পাওয়ায় তারা মহাখুশি। কর্মজীবনে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেবা করতে চান বলে জানান এই নবীন কর্মচারীরা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের দাবি, চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কারও কাছে তাদের একচুলও ধরনা দিতে হয়নি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন তালুকদার আমার দেশ-কে বলেন, কোনো প্রকার তদবির ও অর্থনৈতিক লেনদেন ছাড়া যে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব, সদ্য যোগদানকারী এই তরুণ-তরুণীরাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আর কেউ না জানুক, যারা চাকরি পেয়েছেন, কেবল তাঁরাই জানেন কীভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ আমার দেশ-কে বলেন, আমি কোনো প্রকার চাপের কাছে মাথা নত করিনি। বরিশালে যোগদানের পর থেকে বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক নিয়োগ সম্পন্ন করেছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে টাকার বিনিময়ে একটিও চাকরি দেওয়া হয়েছে, তবে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।” তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ও সুফল আজ বাস্তবে পেলেন এই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তরা। সততার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দেশ ও জাতির সেবা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

