রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী হবেন তাসিন খান

রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী হবেন তাসিন খান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো নারী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন তাসিন খান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতার কথা জানান।

তাসিন খান শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। রাকসুর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৬৪ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা নির্বাচিত হননি। এবার তাসিন খানের পাশাপাশি ছাত্রী হলের আরো একাধিক শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষ পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভিপি পদে তাসিন খানই প্রথম নারী প্রার্থী।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসিন খান বলেন, ‘আমরা রক্তক্ষয়ী জুলাইয়ের সাক্ষী হয়েছিলাম... আমি তখন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছিলাম যে হয়তো আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা হবে না।’ তিনি আরও বলেন যে, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী এই জীবনে আমি আমার বোনাস আয়ু পার করছি,’ এবং এই সময়ে তার ‘কিছু হারানোর ভয় বা প্রাপ্তির লোভ নাই।’

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের পর একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হননি। তবে তিনি নিজেকে বরাবরই রাজনীতিসচেতন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চান এবং দলান্ধতাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাহিত্যিক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত।

রাকসু নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তাসিন খান বলেন, ‘আমার কোনো দলীয় সাপোর্ট, ফান্ডিং বা কর্মী বাহিনী নাই।’ তিনি আরো জানান, একজন নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি সাইবার নিরাপত্তা-সহ সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সমস্ত ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তাসিন খান বলেন, ‘আমি চাই এমন একটি রাকসু, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বহুত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হবে প্রতিদিনের বাস্তবতা।’ দীর্ঘকাল ধরে অচল থাকা এই প্ল্যাটফর্মকে সক্রিয় ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই তিনি এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে লড়ছেন।

জয়ের সম্ভাবনা তিনি বলেন, আমি আশাবাদী। আমার কাজ, ইশতেহার, অ্যাক্টিভিটি সবকিছু বিবেচনা করে যদি শিক্ষার্থীরা আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে তারা আমাকে নির্বাচিত করবে। সুতরাং জিতব কি না সেই সমীকরণ না মিলিয়ে আমি কাজে ফোকাস করার চেষ্টা করছি। আমি নির্বাচিত হই বা না হই আমার ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তবে নির্বাচিত হলে তা ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করে যেতে পারব।

নারী প্রার্থী হিসেবে আপনার কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি খুব সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়ে। আমার কোনো সাংগঠনিক সাপোর্ট নেই, আমার বিশাল ফান্ডিং নেই, আমার কোনো কর্মীবাহিনী নেই। অথচ একজন নারী প্রার্থী হওয়াই আমার বুলিং, হ্যারাসমেন্টসহ আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা বেশি। তবে আমি সব প্রতিবন্ধকতার সাথে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেখা যাক কতদূর যেতে পারি। জুলাইয়ে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে এসেছি। তাই মনে ভয় জিনিসটা কমই কাজ করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন