মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের দায়ে দারোয়ানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের দায়ে দারোয়ানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসার এতিম শাখার এক শিশুকে ধর্ষণে অভিযুক্ত দারোয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে অর্ধলাখ টাকা অর্থদণ্ড ও করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, কক্সবাজারের বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি বুধবার (০৬ মে) নিশ্চিত করেছেন ওই ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ছলিমুল মোস্তফা।

দণ্ডপ্রাপ্ত মহিউদ্দিন ওরফে মহদ্দিন (৪৫) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল মলমচরের সাকের হোসেন ও নুরজাহানের ছেলে। বর্তমানে তিনি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া কালামিয়াকাটা এলাকায় বাস করেন।

তিনি কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসায় দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে মামলা হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

সূত্র মতে, ঈদগাঁওয়ে এক নারী তার ১০ বছর বয়সী এতিম নাতনিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০২১ সালের ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় শিশু সহিংসতা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা জানান, শিশুটির ২ বছর থাকাকালীন তার মাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার পর ওই নারী মেয়ের মতোই লালনপালন করেন। অভাবের কারণে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসার এতিখানায় দেয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ সকালে নাস্তার প্রলোভনে শিশুটিকে নিজের রুমে নিয়ে যৌন নিপীড়ন চালান দারোয়ান মহিউদ্দিন। এতে শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ হলে এতিমখানার দায়িত্বে থাকা আমির হুজুরের স্ত্রীকে জানান। তবে বিষয়টি অভিভাবককে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, ভিকটিমের অভিভাবক ২০ মার্চ দুপুরে মাদরাসায় গেলে শিশুটি তাকে বিষয়টি জানায়। এসময় তিনি নাতনিকে নিয়ে যেতে চাইলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিয়ে যেতে দেয়নি। এলাকায় গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তার পরামর্শে ২২ মার্চ কক্সবাজার সদর থানায় গিয়ে মামলা করা হয়। ওইদিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পিপি ছলিমুল মোস্তফার দেয়া তথ্যমতে, মামলার ৬ মাসের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন এবং ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষে মঙ্গলবার (০৫ মে) রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এতে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

এদিকে কারান্তরীণ হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে পলাতক থাকায় রায় ঘোষণাকালে আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর সাজাভোগ গণনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হরি সাধন পাল বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমান উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়ে মামলা হওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক দারোয়ান মহিউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এখন সাজার রায় যথাযথভাবে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...