সীতাকুণ্ডে জমি নিয়ে বিরোধ, নির্মাণাধীন রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের দুই দাবি

সীতাকুণ্ডে জমি নিয়ে বিরোধ, নির্মাণাধীন রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের দুই দাবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোলাগিরি আশ্রমসংলগ্ন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন রাস্তা নিয়ে জমির মালিকানা ও অনুমোদন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সমবায়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের সময় সরকারি খাসজমি ও বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলাউদ্দিনের দাবি, রাস্তার অংশ তার রেকর্ডভুক্ত জমির মধ্যে রয়েছে এবং বিআরডিবির জমি বিনিময়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে।

গত শুক্র ও শনিবার ওই এলাকায় ইটের খোয়া ও কংক্রিট ফেলে রাস্তা নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ মনে করছেন, পাশের একটি বেসরকারি আবাসন বা প্লট প্রকল্পের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে রাস্তার নির্মাণের সঙ্গে ওই প্রকল্পের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি-না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আলাউদ্দিন জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিআরডিবির ৯০ পয়েন্ট জমির বিপরীতে ১০৩ পয়েন্ট জমি বিনিময়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন রাস্তার জায়গা তার রেকর্ডীয় জমির অংশ বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া খাসজমি ব্যবহারের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে বিআরডিবির কর্মকর্তার বক্তব্য ভিন্ন। চট্টগ্রাম জেলা বিআরডিবির কর্মকর্তা জাফরুল আলম বলেন, জমি হস্তান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি। বিষয়টি সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির আসন্ন বার্ষিক সভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগে সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির জায়গায় দেয়াল ভেঙে দখলের চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমানে জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেখানে নির্মাণকাজ করা সমীচীন নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে পূর্ব মহাদেবপুর কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি আলমগীর ইমরান অভিযোগ করেন, সরকারি ছুটির সময়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, নির্মাণাধীন রাস্তার মধ্যে সমবায় সমিতির জমির পাশাপাশি সরকারি খাসজমিও পড়েছে।

তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও রাস্তার অবস্থান নিয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাউদ্দিনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ঘটনাস্থলে ওই অনুমোদনের লিখিত কপি, স্মারক নম্বর বা দাগ-খতিয়ান ও সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত নথি পাওয়া যায়নি। একইভাবে শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে রাস্তার পুরো অংশ সরকারি বা বিআরডিবির জমিতে নির্মিত হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাচ্ছে না।

বিষয়টি যাচাই করতে সরেজমিনে জমি পরিমাপের কথা জানিয়েছে ভূমি প্রশাসন। সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নির্মাণাধীন রাস্তার দাগ-খতিয়ান, জমির শ্রেণি ও সীমানা সরেজমিনে পরিমাপ করা হবে। সরকারি সম্পদে অনিয়ম বা দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন