সন্দ্বীপসহ দেশের উপকূলগুলো রক্ষা ও উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সেই সঙ্গে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ নেবে সরকার। এসব এলাকায় নিবিড় বনায়ন প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অবাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। উপকূলবাসীর জন্য সরকারের বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ ও ‘হিউম্যান ২৪’ আয়োজিত ‘সন্দ্বীপের এপ্রিল ট্র্যাজেডি: উপকূল বাঁচাতে এখনই সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক উপকূলীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও নদীভাঙন থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে একটি 'সেফটি নেট' তৈরির চেষ্টা চলছে। সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করতে হবে, যাতে এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সংলাপে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় ব্লক বা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল কাজ। বিগত ১৭ বছরে দেশের সম্পদ পাচারের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আপাতত উপকূলীয় অঞ্চলে নিবিড় বনায়ন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সন্দ্বীপের কোন ইউনিয়নে কী পরিমাণ ও কী ধরনের গাছ লাগানো হবে, তার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলাফল আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের নৌযোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ ও সেতু প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সন্দ্বীপ সফরের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ নৌচলাচলের ব্যবস্থা করা এবং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সন্দ্বীপের ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ নিশ্চিত করা।’ এছাড়া ঘাটের ভাড়ার সমস্যাও আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সন্দ্বীপে পর্যায়ক্রমে ল্যান্ড সার্ভে বা ভূমি জরিপ শুরু করা হবে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করবে। এছাড়া ভাসানচরের সীমানা নির্ধারণে ইতিমধ্যেই পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। খাজনা আদায়ের সমস্যার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
সন্দ্বীপে অবৈধভাবে বালু বা মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি অতীতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হওয়া জাতীয় সম্পদের অপচয়, যা আর হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও শিক্ষকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সন্দ্বীপের নাগরিকেরা নদীভাঙন, নৌযাতায়াত, ভূমির অধিকার ও শিক্ষা-চিকিৎসার অপর্যাপ্ততার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয়ে কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়া সন্দ্বীপের ইউএনওকে কল করে সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আমির আলাউদ্দীন শিকদার এবং সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের। সংলাপে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন, সিপিআরডির প্রধান নিবার্হী মো. সামসুদ্দোহা, বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শোয়াইব উদ্দিন হায়দার, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর, সাংবাদিক নুর নবী রবিন প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

