কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে তারসহ সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ১০ বছর পর মামলার অগ্রগতি প্রমাণ করে শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে দাবি তনুর বাবা-মায়ের। কিন্তু ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়া ডাক্তারের কি কিছুই হবে না? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তনুর বাবা ।
গতকাল রোববার সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন আমার দেশকে বলেন, তখন ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছিলেন ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তিনি আমাদের সহযোগিতা করেননি। আমি শুনেছি তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন । সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি তাকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য ।
সূত্রমতে, তনুকে হত্যার পর পোস্টমর্টেম টিমের প্রধান ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাননি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেন। পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও হত্যার সুস্পষ্ট কারণ এড়িয়ে গিয়ে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন যে তনুর স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক থাকতে পারে, যা সে সময় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল ।
জানা যায়, বিতর্কিত এই চিকিৎসক বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি এনওসি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি সার্কভুক্ত কয়েকটি দেশে ট্যুরের নাম করে মূলত আমেরিকায় পালিয়ে গিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যেহেতু বর্তমানে মূল মামলার আসামিরা ধরা পড়তে শুরু করেছে, তাই এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অন্যতম সহযোগী এবং ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়া কামদা প্রসাদ সাহাকে এখনই নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। অবিলম্বে তার এনওসি প্রদানের প্রক্রিয়া স্থগিত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা।
মাহফুজ আজিম এক শিক্ষার্থী জানান, তনু হত্যা মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে তাকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হোক। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে বিষয়টি দ্রুত যাচাইপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগম আমার দেশকে গতকাল রোববার সকালে বলেন, এই চিকিৎসক আমার মেয়ের ডাক্তারি রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছিলেন। তিনি মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিলেন। এখন কেন তিনি পালিয়ে যাবেন। এর কারণ কী? তিনি যদি অপরাধী না হন, তাহলে পালানোর চেষ্টাই বা কেন করবেন? তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

