অপরিকল্পিত শিল্পায়নের আগ্রাসনে হুমকিতে পড়েছে সীতাকুণ্ডের কৃষিজমি। অপরিকল্পিতভাবে সেখানে কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা । এতে করে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। অন্যদিকে শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে কৃষি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা । এতে ফসল উৎপাদনও কমে গেছে । ফলে সীতাকুণ্ডে কৃষি উৎপাদনে নেমেছে ধস।
এক সময় সবুজ ধানক্ষেত, শাকসবজি ও মৌসুমি ফসলের সমারোহে মুখর ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তরাঞ্চল। শিল্পায়নের আগ্রাসনে বদলে যাচ্ছে চিরচেনা অবস্থা। বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে বছরের অধিকাংশ সময় কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ত।
তবে সময়ের ব্যবধানে বদলে যাচ্ছে সেই চিরচেনা কৃষিনির্ভর জনপদের চিত্র। শিল্পায়নের আগ্রাসনে দুই ও তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমি দখল করে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা, কনটেইনার ইয়ার্ড, গুদাম ও আবাসন প্রকল্প। ফলে কৃষিকাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজারো কৃষক ও কৃষিশ্রমিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রকাশ্যে কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাট ও উপকূল দখলের ঘটনাও বেড়েছে। প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীগুলো একের পর এক জমি কিনে নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও কৃষিজমিতে বালু ফেলা হচ্ছে, কোথাও আবার শিল্প প্রকল্প নির্মাণের জন্য উর্বর টপসয়েল অপসারণ করা হচ্ছে।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সমুদ্র উপকূল ও বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে শুরু করে পূর্ব পাশে পাহাড়ঘেরা অঞ্চল পর্যন্ত হাজার হাজার একর জমি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জমি কিনে বছরের পর বছর ফেলে রাখলেও সেখানে আর কৃষিকাজ হচ্ছে না।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার একর কৃষিজমি রয়েছে। দুই ও তিন ফসলি জমির ওপর নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আর কোনো কৃষিজমি অবশিষ্ট থাকবে না। এদিকে, কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে সম্প্রতি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের কাছে স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানার নামে কৃষিজমি ভরাটের কোনো সুযোগ নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

