আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ফের ডিগবাজি দিতে প্রস্তুত সাবেক মেয়র মনজুর

আ.লীগ ছেড়ে নেমেছেন বিএনপির প্রচারে

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

আ.লীগ ছেড়ে নেমেছেন বিএনপির প্রচারে
এম মনজুর আলম

ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ২০১০ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে যোগ দেন বিএনপিতে। রাতারাতি মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে বিপুল ভোটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এম মনজুর আলম। পাঁচ বছর দাপটের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও।

পরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি শুরু হলে ভোটের দিন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মনজুর। দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ফিরে যান আওয়ামী লীগে। ভাতিজা দিদারুল আলমকে পাইয়ে দেন সীতাকুণ্ড আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট। শেখ রাসেলের নামে গড়ে তোলেন মিনি স্টেডিয়াম, যার উদ্বোধন করেন সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শেখ হাসিনাকে অলি-আউলিয়ার সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন মনজুর। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের ভোট জালিয়াতির বৈধতাও দিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জুলাই বিপ্লবের পর ফের ডিগবাজি দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এম মনজুর আলম। আবার বিএনপিতে ভিড়তে চান চট্টগ্রামের এরশাদখ্যাত সুবিধাবাদী এই রাজনীতিবিদ। শেখ রাসেলের নামে গড়া মিনি স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে মোস্তফা হাকিম স্টেডিয়াম নামকরণ করেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতেই। ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার স্মরণসভা করে আলোচনায় আসেন তিনি। সবশেষ চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর পক্ষে সপরিবারে নির্বাচনি প্রচারে নেমেছেন মনজুর আলম। নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি আবার বিএনপিতে যোগদান করবেন এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফের বিএনপির হয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রচার চালাচ্ছেন তার কর্মী-সমর্থকেরা।

গত বৃহস্পতিবার কাট্টলী এলাকায় আসলাম চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনি সভার আয়োজন করেন সাবেক মেয়র মনজুর। এতে যোগ দেন সীতাকুণ্ড ও মহানগর বিএনপির নেতারাও। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলম জানান, তিনি আমাদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আছে। আমরা সেটাকে কাজে লাগাচ্ছি। এর মানে এই নয় যে, তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন। ধানের শীষের পক্ষে কেউ ভোট চাইতে এলে আমরা তো তাকে নিষেধ করতে পারি না। তবে তার বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

এ ব্যাপারে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, রাজনীতিবিদের পাশাপাশি আমি একজন সমাজসেবক। ২০১৫ সালে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও কখনো আওয়ামী লীগে যোগদান করিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা আছে। সে জায়গা থেকেই আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার প্রয়োজন বোধ করছি। সেই দায়বদ্ধতা থেকে প্রচারে নেমেছি। বেগম জিয়ার মৃতুর পর তার নামে মসজিদ-স্কুলসহ তিনটি প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। এসব দেখে অনেকে ভাবছেন আমি ফের বিএনপিতে যোগ দিচ্ছি। কেউ কেউ মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথাও বলছেন। কিন্তু সেভাবে এখনো কিছু ভাবিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন