চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানু নিজ বাড়িতে ছেলের ঘরের দরজায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ঠাঁই না পাওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধা মাকে আশ্রয় দিতে ছয় সন্তানের কারও ঘরের দরজাই খোলা হয়নি। বন্ধ দরজায় বারবার টোকা দিয়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বসে বসে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই মা।
উপজেলার পূর্ব কাদরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী জয়নব ভানু কয়েক বছর আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। তাঁর বেঁচে থাকার সম্বল ছয় ছেলে। কলিজার টুকরা ছয় সন্তানের কারও ঘরে ঠাঁই না পেয়ে দিশেহারা হয়ে স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়েঘর তৈরির আকুতি জানান তিনি।
জয়নব ভানু অভিযোগ করেন, দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে ছেলেদের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে অসহায় অবস্থায় বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি স্বামীর ভিটায় একটি কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানান তাদের কাছে।
এ বিষয়ে মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, দীর্ঘ এক বছর মা কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না এবং এর আগেও তাকে বেশ কয়েকবার তিনি ডেকেছেন। বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী জানান, বৃদ্ধা তাদের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন; পরে কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও জানান, তিনি কখন এসেছেন, তা তারা জানেন না।
জয়নব ভানুর মেয়ে ঝরনা বেগম জানান, মায়ের খবর শুনে তিনি ছুটে আসেন। গত বিশ বছর ধরে তারা মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন। তারা চান আমার মাকে আমার বাড়িতে তুলে দিতে।
স্থানীয় আবদুল কাদের খান ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেব।
জয়নব ভানুর ছয় ছেলের মধ্যে শাহজাহান ও আবুল কাশেম বাড়িতে বসবাস করলেও বাকি চার সন্তান প্রবাসী।
চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলম বেলাল জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন; তবে একজন মায়ের সঙ্গে এমন ঘটনা সত্যিই হৃদয়বিদারক। সামাজিকভাবে ছেলেদের বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
শেষ পর্যন্ত ছেলেদের ঘরে ঠাঁই না পেয়ে জয়নব ভানুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান মেয়ে ঝরনা বেগম।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

