টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান শুরু

টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান শুরু
ছবি: আমার দেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড়ে মানবপাচার চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআরবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্গম ওই পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে বন্দিশালা থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়।

অভিযান চলাকালে পাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ও ঘটে। এ সময় মানব পাচারকারীদের গুলিতে সেনা সদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে, শুক্রবার টেকনাফ মডেল থানার প্রাঙ্গণে উদ্ধার হওয়া ৫৭ ভুক্তভোগীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে ৬জন রোহিঙ্গা ও ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

একই দিন ওই পাহাড়ে ৩টি লাশ পড়ে থাকার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। উদ্ধার হওয়া শহিদুল ইসলাম জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে নিহত ব্যক্তিরা ডাকাত দলের সদস্য, নাকি বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী, তা নিশ্চিত নন তিনি। বন্দিশালার কাছে ৩টি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান শহিদুল।

এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের বক্তব্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণা ও বন্দিদশার চিত্র ওঠে এসেছে।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়া হয়। পরে পাহাড়ের একটি আস্তানায় আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে ৮ দিন বন্দি ছিলেন তিনি। ২ বার পালানোর চেষ্টা করেও সফল হননি।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বন্দিশালায় ৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন, তাদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পাহাড়ে সশস্ত্র লোকজন আস্তানাটি পাহারা দিতেন। বন্দিদের মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে ৩টি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে তবে যতক্ষণ না সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, সেখানে আসলে মরদেহগুলো আছে কিনা? তা সন্ধানে আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, মানবপাচারকারী যতদিন থাকবে, ততদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, টেকনাফের মোচনী লেদা, আলীখালী, রঙ্গিখালীর পাহাড়গুলো ডাকাত, মাদক ও মানব পাচারকারীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধী চক্র পাহাড়ে অবস্থান করে মানব পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের হাতে রয়েছে দেশি-বিদেশি ভারী অস্ত্র।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন