মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ ইলিশ ধরবেন না। মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না নামা উচিত। সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখার মধ্য দিয়েই আপনারাই ভবিষ্যতে আরো বেশি ইলিশ ধরতে পারবেন।’
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদী মাঠে মৎস্য অধিদপ্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কৃষকের সন্তান বলতে গর্ববোধ করি। কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ খাতের মানুষের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
মৎস্য খাতে সরকারের সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মৎস্য অভিযানকে কেন্দ্র করে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যসহায়তা প্রদান করে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জেলেদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, জেলেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে খাঁচায় ভাসমান মাছ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে। বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময়েও আয়ের সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হতে হবে।
চাঁদপুরের মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে চাঁদপুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইলিশ উৎপাদন, নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে এ জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি যেমন উপকৃত হবে, তেমনি জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের পথও সুগম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য পদ্মা-মেঘনাসহ নির্ধারিত নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

