সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসে নিখোঁজের চারদিন পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচে মিলেছে এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ। নিহত কোহিনুর আক্তার (৩০) উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইল পাড়ার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত বলছে, কয়েকদিন আগে অসুস্থ ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে কোহিনুর আক্তার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালে শিশুটিকে রেখে গত ৪ মার্চ ওষুধ আনতে বের হন তিনি। কিন্তু এরপর থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
স্বজনরা জানিয়েছেন, কোহিনুর আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। তাকে খুঁজে পেতে তারা উখিয়া থানা, কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও র্যাব-১৫ এর কাছেও সহযোগিতা চান। তবুও টানা তিনদিন কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এক নিকটাত্মীয় জানান, শনিবার সকালে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে- কোহিনুর আক্তার লিফটে ঢুকেছিলেন, কিন্তু লিফট থেকে তিনি আর বের হননি। তখন লিফটের নিচে খোঁজ করতে গিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অবশেষে নিখোঁজের চারদিন পর হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে গৃহবধূ কোহিনুর আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল জানান, ওই নারী লিফটে উঠার সময় নিচে পড়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, উপর থেকে লিফট আসার আগেই দরজা খুলে যাওয়ায় ওই নারী লিফটের নিচে পড়ে যান।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা সদর হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের নিকটাত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে মারমুখী হয়ে উঠেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপরদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, দিনরাত যেখানে শত শত রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যাতায়াত, সেই হাসপাতালের ভেতরেই কিভাবে একটি মরদেহ তিনদিন পড়ে থাকতে পারে! হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি কতটা দুর্বল হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে- সেই প্রশ্নও তুলছেন সাধারণ মানুষ।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন। তিনি জানান, শনিবার দুপুরের পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

