কুমিল্লা নগরীর আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘র’ বা ‘RAW’-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। একই অভিযানে তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রতন কে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের আরেক কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ এবং তার সহযোগী রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকারকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—‘RAW’ গ্যাংয়ের ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘Crime Setup’-এর মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে। অপর দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় চলছে। এসব অভিযানে সন্দেহভাজন দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অভিযানের কারণে কুমিল্লার কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর নেতৃত্বস্থানীয় চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, রতনকে গ্রেপ্তারে কয়েক দিন ধরে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেন। কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান হয়ে সর্বশেষ কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে কিশোর গ্যাং লিডার রতনের সঙ্গে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সম্পর্ক নিয়েও সম্প্রতি আলোচনা তৈরি হয়েছে। রতনের সঙ্গে মহসিনের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মহসিনের নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক মিছিলে রতনের উপস্থিতির ছবিও প্রকাশ্যে আসে।
মহসিন শুরু থেকেই রতনের সঙ্গে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে ভিডিও ও মিছিলে রতনের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও আলোচনায় এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ধাবিতকারী কোনো গ্যাং বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

