ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমাতুল্লাহ টেটাবিদ্ধসহ তার বাবা মতিউর রহমান ও বড় ভাই রুহুল আমিন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে রহমাতুল্লাহ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মাদকবিরোধী একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রহমাতুল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।
আহত রহমাতুল্লাহ বলেন, “আমি ফেসবুকে মাদকবিরোধী একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে কারও নাম উল্লেখ করিনি। এরপরও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। পরে দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে আমাকে টেটাবিদ্ধ করে। আমার বাবা ও বড় ভাইকেও মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীরা আমাদের ৯টি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক কারবারিদের কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি শুধু সচেতনতার জন্য পোস্ট করেছিলাম।”
এ ঘটনায় রহমাতুল্লাহর বোন জামাই হবিউর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “ফেসবুকে দেওয়া মাদকবিরোধী স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মামলার পর আলমগীর, ফরহাদ ও জাহাঙ্গীর নামে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে ‘’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

