আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পুরোনো কার্পেটিং না উঠিয়ে কার্পেটিং করার অভিযোগ

১৮ দিনেই দেবে গেছে ১৮ কোটি টাকার সড়ক

এম হাসান, কুমিল্লা

১৮ দিনেই দেবে গেছে ১৮ কোটি টাকার সড়ক

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের এম এ গনি সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের ১৮ দিনের মাথায় দেবে গেছে। এ সড়ক সংস্কারে খরচ হচ্ছে ১৮ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার রাস্তার সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন এবং উপেক্ষা করেছেন দরপত্রের শর্ত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাম মাত্র বিটুমিন দিয়ে রাস্তার কাজ করার কারণে কার্পেটিংয়ের এমন অবস্থা হয়েছে। এছাড়াও সড়কের পাশে রিটেনিং ওয়াল না করেই কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার মোহাম্মদ আবুল হোসেন। এছাড়াও সড়কের কিছু কিছু অংশে পুরাতন কার্পেটিংয়ের ওপর নতুন করে কার্পেটিং করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে বুড়িচং পর্যন্ত এম এ গনি সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হয় আনুমানিক দুই মাস আগে। কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে এবং আরো কিছু অংশের কাজ এখনো চলছে। এর জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৮ কোটি টাকা।

গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এম এ গনি সড়কের পালপাড়া মুহুরী বাড়ি এলাকায় রিটেইনিং দেয়ালা না দিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে। গাজীপুর গ্রামের ব্রাক অফিসের সামনের সড়কটি ছয় থেকে আট ইঞ্চি দেবে গেছে। এই সড়কের কাজ শেষ হয়েছে ১৮ দিন আগে। এছাড়া আড়াইওরা এলাকায় পুরাতন সড়কের উপর যেনতেনভাবে রাতের আঁধারে কার্পেটিং করেছে ঠিকাদার ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন রাতের আঁধারে রাস্তায় নিম্নমানের পিচ দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করেছে। যা হাত দিয়ে টান দিলে বা পা দিয়ে ঘষা দিলেই উঠে যাচ্ছে। ৫০ মিলিমিটার কার্পেটিং করার কথা থাকলেও কিছু কিছু স্থানে ২০ থেকে ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা কলেজের সামনে দিয়ে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় হালিমা গ্রুপের কর্মকর্তা এম এইচ রুবেল । তিনি জানান, কার্পেটিং করা রাস্তায় কেন কাজ করা হচ্ছে এ বিষয়ে কর্মরত ঠিকাদারের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, এই জায়গার কার্পেটিং নষ্ট হয়ে গেছে, তাই আবার মেরামত করা হচ্ছে ।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ইছাপুরা গ্রামের জোবায়ের আহমেদ আমার দেশ জানান, বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়ার লাখো মানুষের স্বপ্নের রাস্তা মাত্র কয়েকদিনের মাথায় দেবে গেছে। নিম্নমানের পিচ ঢালাইয়ের ফল এখন সবার চোখের সামনে স্পষ্ট। আমরা এই বিষয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু কেউ শোনেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোহাম্মদ আবুল হোসেন আমার দেশকে বলেন, কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে এজন্য দেবে গেছে । এগুলো আমরা আবার মেরামত করে দেব । রিটেনিং ওয়াল না করেই সড়ক নির্মাণ কেন করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার বলেন, রিটেনিং ওয়াল যে কোনো সময় করা যায় ।‌

সড়ক দেবে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার গোলাম মোস্তফা আমার দেশকে বলেন, ঠিকাদারের কাজ এখনো চলমান। যেসব এলাকায় সমস্যা হচ্ছে সেগুলো আবার নতুন করে করা হবে । কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই । কোথাও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে আমরা তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন