পুলিশ ডেকেও ক্যাম্পাসে যাননি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস থেকে তার চুয়েটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাননি। তার আগমনের খবরে চুয়েটেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বাড়তি পাহারা বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে ভিন্ন কথা বলেছেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তার ভাষ্যমতে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তিনি যেদিন ক্যাম্পাসে যাবেন, সেদিন সরাসরি দপ্তরে যোগ দেবেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে চুয়েটের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল শেখ শরীফুল আলমের। তার সঙ্গে একাধিক পুলিশের প্রটোকল গাড়ি থাকার কথা ছিল। কিন্তু সকালে সার্কিট হাউসে দুটি পুলিশের গাড়ি থাকলেও উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে নিয়ে বের হতে দেখা যায়নি। পরে তিনি যাচ্ছেন না বলে জানা যায়।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘নতুন উপাচার্য সকালে চুয়েটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তা বাদ দিয়েছেন। কেন যাননি, বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’
এদিকে তার আগমনের খবর পেয়ে চুয়েটে বাড়তি সতর্কতায় ছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ১৭তম দিনের আন্দোলনে সকাল আটটা থেকে তারা মূল ফটকসহ সব কটি প্রবেশপথে তালা দিয়ে গ্রুপে গ্রুপে পাহারা বসান। ক্যাম্পাসে নতুন ভিসি শেখ শরীফুল আলম প্রবেশের চেষ্টা করলেই বাধা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে তারা এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়ে দাবি আদায়ের বিষয়ে পুনরায় একমত হন।
বিকেলে শিক্ষক সমিতির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাইরের কোনো শিক্ষককে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। চুয়েটের ভেতর থেকেই জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে উপাচার্য করতে হবে।’ তবে তারা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের একটি সাধারণ সভা ছিল। সেখানে আমরা সবাই আমাদের দাবির বিষয়ে একমত হয়েছি। চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে আমরা উপাচার্য হিসেবে চাই না।’
চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই—অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। এ জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তবে বৃহস্পতিবার চুয়েটে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি গেলে তো সেখানেই থাকতাম। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিক্ষকদের সঙ্গে এখনো কোনো কথা হয়নি। তাদের মিটিং হয়েছিল। যতটুকু জানতে পেরেছি, তারা সমিতির রেজ্যুলেশন বারবার পরিবর্তন করছেন। তবে আমি দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করব।’
যদিও ভিন্ন কথা বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্য বৃহস্পতিবার আসার কথা ছিল। এ রকম একটি কর্মসূচি তিনি রাখলেও বুধবার রাতেই তা বাতিল করেছিলেন। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে।’ ।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম চুয়েটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আমি কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তাকে পরিস্থিতির কথা অবগত করেছি।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-c5dfd9-720x405.webp)