দেশের ব্লু ইকোনমির ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবারও আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরঘেঁষা এই শিল্পাঞ্চলে গড়ে ওঠা ১২৪টি শিপইয়ার্ড পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সচল করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ঘটবে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন, পাশাপাশি তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান এবং শক্তিশালী হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলে নবনির্মিত সাগরিকা গ্রিন শিপইয়ার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচনের সভাপতি পদপ্রার্থী ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সহসভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরী শিপ ব্রেকিং শিল্পের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডে বিদ্যমান ১২৪টি শিপইয়ার্ড দেশের শিল্প অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৫টি ইয়ার্ডকে গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যে ২৪টি ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও হংকং কনভেনশনের শর্ত পূরণ করে পূর্ণাঙ্গ গ্রিন শিপইয়ার্ডে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি শিপইয়ার্ডকে গ্রিন স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তর করতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও ধাপে ধাপে সব ইয়ার্ডকে পরিবেশবান্ধব আধুনিক কাঠামোর আওতায় আনা গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হবে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, শিপব্রেকিং ও শিপ রিসাইক্লিং খাত দেশের রড, স্টিল ও অবকাঠামো শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে। ফলে এই খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, ব্লু ইকোনমির এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন শিল্পায়নের দ্বার উন্মোচিত হবে এবং হাজারো তরুণের জন্য সৃষ্টি হবে টেকসই ও নিরাপদ কর্মসংস্থান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিপইয়ার্ড মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এই শিল্পের উন্নয়ন ও টেকসই বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তা, ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ এবং আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

