চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন স্বাভাবিক রাখতে ২১টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো বা অফডক কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। রপ্তানি পণ্যের শতভাগ আর ৬৪ ক্যাটাগরির আমদানি পণ্যের পাশাপাশি খালি কন্টেইনারের বড় অংশ হ্যান্ডলিং করে এসব বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ। নীতিমালা অনুযায়ী এতদিন এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুযোগ ছিল ৪৯ শতাংশ। কিন্তু আসছে বাজেটে ৪৯ শতাংশের এ বাধ্যবাধকতা তুলে দিতে চায় সরকার।
সরকারের দাবি, এতে খাতটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, শুধু ৪৯ শতাংশের বাধ্যবাধকতা বিদেশি বিনিয়োগের একমাত্র বাধা নয়। বাকি বাধাগুলো সহজীকরণ না করলে সুফল আসবে না, বরং নতুন এ নীতিমালার সুযোগে তৈরি হবে অস্থিরতা।
বন্দর সুত্র জানায়, বন্দরের কাজের সুবিধার জন্য বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোর অনুমোদন দেয় সরকার। বর্তমানে ২১টি ডিপোর অনুমোদন থাকলেও পুরোপুরি অপারেশনে আছে ১৯টি অফডক, যা বন্দরের বর্ধিত অংশ হিসেবেই পরিচিত। চলমান নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি কোনো কোম্পানি এ খাতে বিনিয়োগ করতে চাইলে দেশীয় অন্য বা একাধিক কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তাদের অংশীদারত্ব বেশি স্বীকার করে নিয়েই বিনিয়োগ করতে হতো। অর্থাৎ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশের বেশি বিনিয়োগের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে একটি ডিপো ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আর কোনো অফডকে নেই।
সরকারের ধারণা, আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ৫১ শতাংশের মালিকানা না থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ না থাকায় এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। তাই আগামী বাজেটে ৪৯ শতাংশের বাধ্যবাধকতা তুলে দিতে চায় সরকার। এ নীতি বাস্তবায়ন হলে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগেও অফডক তৈরির সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের ধারণা, নতুন এ নীতিমালায় এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।
তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে বন্দর ব্যবহারকারী আর অফডক কর্তৃপক্ষের। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জানান, সরকারের এ উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্বস্তিদায়ক। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ না পেলে কোনো কোম্পানি বিনিয়োগ করবে না। বিদেশি বিনিয়োগ এলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এখন যেকোনো ইস্যুতে অফডকের চার্জ বাড়ানোসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের জিম্মি করে দাবি আদায় করা হয়। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ থাকলে সেটা সম্ভব হবে না। ফলে সরকারের এ উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার জানান, অফডক খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট না হওয়ার কারণ শুধু বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা নয়। আমরা যেভাবে বন্দর কাস্টমসের সিস্টেম ফেস করে ব্যবসা করি, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান এভাবে ব্যবসা করবে না। তারা বিনিয়োগ করলে কন্টেইনার সহজভাবে জাহাজ থেকে নামাতে এবং সহজভাবে তুলে দিতে চাইবে। কিন্তু মাঝখানে বন্দর কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছে ফাইল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করবে না। তাই মালিকানার অংশীদারত্বের চেয়ে সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতি তৈরি করতে হবে। আর এটা হলে ৪৯ শতাংশ মালিকানায়ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। ব্যবসার পলিসিতে পরিবর্তন না এলে শতভাগ মালিকানায়ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যাবে না বলেও জানান তিনি।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক নসরুল কদির জানান, বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো বা অফডক বন্দরেরই একটি পার্ট। সম্প্রতি বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে বিনিয়োগ করতে বিদেশি কোম্পানিগুলো আগ্রহ প্রকাশ করছে। এ সময়ে এ খাতে বিনিয়োগে ৪৯ শতাংশের বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, এতদিন ধরে এ খাতটি দেশীয় বেসরকারি উদ্যোক্তারাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় গ্রামবাসী