চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুটোই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন এবং মারা গেছেন ২৪ জন। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে মারা গেছেন তিনজন।
তাদের মধ্যে দুজন উপজেলার এবং একজন মহানগরের বাসিন্দা। সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মহানগরে ২ হাজার ৫৬১ জন, উপজেলাগুলোতে ২ হাজার ৩১৪ জন এবং চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন জেলার ৫৮০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৫। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ জন এবং অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৯ জন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন, জুলাইয়ে ৫৩৬ জন, আগস্টে ১ হাজার ২০২ জন এবং সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। জুলাইয়ে মারা গেছেন দুজন, আগস্টে দুজন, সেপ্টেম্বরে ১৬ জন এবং অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে তিনজন। এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ২৪ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১২ জন নারী ও সাতজন শিশু।
উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে সীতাকুণ্ড। এ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯৫ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে কর্ণফুলী, আক্রান্ত ২৯৫ জন। এ ছাড়া বাঁশখালীতে ১৭৩, রাঙ্গুনিয়ায় ১৬২, সাতকানিয়ায় ১৩৩, আনোয়ারায় ১২৫, রাউজানে ১১১, পটিয়ায় ১১৩, হাটহাজারীতে ৮৮, মিরসরাইয়ে ৯১, বোয়ালখালীতে ৮৩, চন্দনাইশে ৮৭, লোহাগাড়ায় ৭০, ফটিকছড়িতে ৫৪ এবং সন্দ্বীপে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ৪২ জন পুরুষ, ৩৩ জন নারী ও ২১ জন শিশু। সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারেড়ার পর অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেও তিনজনের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-99b714-720x405.webp)