নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া, নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ী—এই তিন চরাঞ্চলে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। যৌথ বাহিনীর অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে পুরো চরাঞ্চল।
রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে কয়েকটি অসাধু চক্র। এর আগে প্রশাসন অভিযান চালাতে গেলে ড্রেজার চক্র ও সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটায়। এসব অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধে এবার কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালিদ হোসেন শিমুলের নেতৃত্বে গতকাল শনিবার দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়। আভিযানিক দলে রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান এবং এসআরবি ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে যৌথ বাহিনী মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের স্পটগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করতে চরমধুয়া, নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ি চরাঞ্চলের বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির খবর পেয়ে পুরো চরাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অধিকাংশ বাড়িঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এলাকাগুলোতে নারী-শিশু ছাড়া কোনো পুরুষের দেখা মেলেনি। এমনকি চরাঞ্চলের সব দোকানপাটও বন্ধ ছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেঘনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বন্ধে এই যৌথ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনে গভীর রাতেও অভিযান চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

