ভূমিহীনের জায়গা দখল করা সেই হাশেমের নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর বিএনপি

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

ভূমিহীনের জায়গা দখল করা সেই হাশেমের নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর বিএনপি

ভূমিহীনের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণকারী আবুল হাশেমকে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। তার নেতৃত্বে জেলায় আট সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়ে। সোমবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মে ২০২২ অনুমোদিত কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বাধীন ৪১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে আবুল হাশেমকে আহ্বায়ক এবং সাতজনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে মোট আট সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তারা হলেন— যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু, ব্যারিস্টার রিজভী উল আহসান মুন্সী, ওসমান গণি ভূঁইয়া ও সুফিয়া খাতুন।

সদ্য বিলুপ্ত কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব তারেক মুন্সী বলেন, সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি দিয়েছে । আমরা তারেক রহমানের রাজনীতি করি, উনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে সে ভূমিহীনের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের করছে। এছাড়াও ব্যারিস্টার রিজভী উল আহসান মুন্সী ৫ আগস্টের পরে রাজনীতি এসেছে তাকেও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। বলার ভাষা নেই ।

নতুন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, নতুন কমিটি ঘোষণা করায় বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করতে হবে।

উল্লেখ্য: ভূমিহীন মাসুদ আলমের নামে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাশেম। বর্তমানে সে জমিতে স্থায়ী বহুতল ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। ভুক্তভোগী মাসুদ আলম দাউদকান্দির গৌরীপুর পেন্নাই এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত আবুল হাশেম তার চাচাতো ভাই।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী ভূমিহীন হিসেবে মাসুদ আলমকে ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে সরকার ১০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরও মাসুদ আলম ওই জমি ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। কাগজে-কলমে তার নাম থাকলেও জমির নিয়ন্ত্রণ ছিল হাশেমের হাতে। এক পর্যায়ে পুরো জমির মালিকানা নিজের নামে করে নেন হাশেম। এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার ভূমি দাউদকান্দি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন